সাকিব আল হাসান, শাকিব খান এবং দেশপ্রেম

সাকিব আল হাসান, শাকিব খান এবং দেশপ্রেম



আমি সাকিব আল হাসানকে যে চোখে দেখি, ওই একই চোখে দেখি শাকিব খানকে। তাঁরা দুই দিকের দুইজন পেশাদার, যারা কাজ করেন নিজে আয় করার মাধ্যমে অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য, একটু বিনোদিত করার জন্য।

আমরা দেখতে পাই বা শুনতে পাই, সাকিব আল হাসান বা তামিম ইকবালরা বলছেন তাঁরা দেশের জন্য খেলছেন, তাঁরা দেশপ্রেম থেকে খেলছেন। আসলেই কি তাই?
আবার শাকিব খান বা আরিফিন শুভরাও বলে চলেছেন, তাঁরাও দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন, এটাও কি সত্য?

তাঁদের দাবি মিথ্যে নয়, তাঁরা বাংলাদেশের জন্যই করছেন। তবে এখানে আমার একটি সংযোজন আছে। সাকিব আল হাসান বা তামিম ইকবালরা খেলছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য এবং শাকিব খান বা আরিফিন শুভরা কাজ করছেন বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঢালিউডের জন্য। মানুষ দুই জায়গায়ই যায় একটু বিনোদনের জন্য এবং এর জন্য নিজেদের পয়সা ও সময়, দুটিই নষ্ট করতে হয়।

আমরা ফেইসবুকে দেখে থাকি সাকিবিয়ান বা শাকিবিয়ান বলে কিছু নেটিজেন যাদের লেখায় সাকিব ও শাকিব বন্দনা থাকে সবসময়। এসবকে মন্দ কিছু বলছি না। এসব ভক্তরা সেটাই করছেন যেটা তাদের মনে ধরছে। তবে এরা যখন দেশ, দেশপ্রেম এবং বিনোদন এক করে ফেলেন তখন সেখানে আপত্তি জানাবার অধিকার আমার আছে। আবার আমার আপত্তি জানাবার পরেও কেউ সেটা মানবেন কি মানবেন না সেটিও তাদের নিজস্ব বিষয়।

সাকিব আল হাসান জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন নাকি কোনো ফ্র‍্যাঞ্চাইজ লিগ খেলবেন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় যদি ক্রিকেট বোর্ড কাগজে কলমে কিছু মনে না করে। আবার শাকিব খান দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করবেন নাকি বিদেশের কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে বা বিদেশের ইন্ডাসট্রির কাউকে এখানে এনে তাদের নিয়ে এখানে কাজ করবেন সেটাও তাঁর বিষয় যদি কাগজে-কলমে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকে।

আপনি শুধু দেখবেন আপনি বিনোদিত হচ্ছেন কি না। ইচ্ছে হলে তাঁদের কাজের পর্যালোচনা করতে পারেন আবার সেগুলো এড়িয়েও চলতে পারেন কিন্তু এসবে দেশপ্রেম আনবেন না।

 

-        -  মু. মিজানুর রহমান মিজান

Previous Post Next Post