জিপিএ-৫ ও আমার এক সহপাঠীর কান্না

জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে আত্মহত্যা মতো ঘটনা প্রতিবছরই ঘটছে বিগত ৭/৮ বছর ধরে। এই ৭/৮ বছরের আগে এরকম সর্বোচ্চ মানের ফলাফল অর্জন না করতে পেরে কেউ সুইসাইড করেছেন কিনা সেটি আমার জানা নেই, তবে দুই/তিন বার পরীক্ষা দিতে দেখেছি।

এই সর্বোচ্চ মানের ফলাফলে অবশ্যই ভালোলাগার সর্বোচ্চ অনুভূতি থাকবে সেটি বিশ্বাস করি। কিন্তু এই সর্বোচ্চ মানের ফলাফল যারা প্রত্যাশা করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে এর বিপরিত হলে তা আত্মহত্যা করার মতো উপযুক্ত কোনো বিষয় হয়ে যায় কিনা সেটি আমার জানা নেই কারণ আমি কখনোই সর্বোচ্চ মানের ফলাফল আশা করি নি যার কারণে ওরকম স্ট্যান্ডার্ডের আবেগ বোঝার কিংবা সে আবেগ পড়ার মতো ক্ষমতা আমার নেই। সুতরাং এরকম সর্বোচ্চ মানের ফলাফলের আবেগ বা অনুভূতি নিয়ে আমার কথা বলা উচিৎ নয় যেহেতু এই বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বপ্ন সম্পর্কে আমি অজ্ঞাত।

আমি যে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেই সে বছর আমার দু/চারজন শিক্ষক বা সহপাঠীদের কয়েকজন ভেবে নিয়েছিলেন আমি এ-প্লাস পেতে পারি। আমার সাথেই তাঁরা তাঁদের প্রত্যাশা নিয়ে বলেছিলেন। আমি শুধু বলেছি, আমাকে দিয়ে এ-প্লাস হবে না তবে নিশ্চিত ছিলাম সাড়ে চার পেরোবে। এটিই হয়েছিল। আমি জানি আমি কেমন ছাত্র। 
জিপিএ-৫ ও আমার এক সহপাঠীর কান্না
জিপিএ-৫ ও আমার এক সহপাঠীর কান্না

আমার মতোই আমার এক মেয়ে সহপাঠীকে নিয়েও এরকম কিছু একটা ভেবেছেন কেউ কেউ। ওর সাথে আমারও বেশ ভালো সম্পর্কই ছিলো তখন। চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে-পরে এই রেজাল্ট নিয়ে আমার সাথে অনেক কথাই হয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই ওর মুখ থেকে শুনি নি ও এ-প্লাসের আশা করে বসে আছে। এমনকি ও অনেকটা আমার মতো করেই বলেছিল, "আমি ৫ পাওয়ার মতো স্টুডেন্ট না।" কিন্তু সেই মেয়েটি রেজাল্ট দেয়ার পর প্রচুর কান্না করেছিল এ-প্লাস না পাওয়ার কারণে। এই মেয়েটির ফলাফল আমার কাছাকাছি ছিল। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি কান্নার কারণ কী ছিল। জিপিএ-৫ এর এক্সপেক্টেশান যার ছিল না সে জিপিএ-৫ না পেয়ে কান্না করল! অবাক না হয়ে উপায় কিছু আছে! পরে আমি অন্য কারো থেকে জানতে পারি, ওর পরিবারের অনেকেই আশেপাশের মানুষদের সম্মুখে বলে বেড়িয়েছিল 'মেয়ে এ-প্লাস পাবেই'।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
#mizanurrmizan


জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে আত্মহত্যা মতো ঘটনা প্রতিবছরই ঘটছে বিগত ৭/৮ বছর ধরে। এই ৭/৮ বছরের আগে এরকম সর্বোচ্চ মানের ফলাফল...
Posted by Mizanur R. Mizan on Tuesday, June 2, 2020
Previous Post Next Post