করোনাভাইরাস: কেটে যাবে এ অন্ধকার

জুলাই ২৮, ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে তা চলেছিল নভেম্বর ১১, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। হিসাবমতে এটি স্থায়ী হয়েছিল ৪ বছর ৩ মাস ২ সপ্তাহ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এসে হাজির হয় সেপ্টেম্বর ১, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে এবং তা বিদায় নেয় সেপ্টেম্বর ২, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ যা স্থায়ী হয় ৬ বছর ১ দিন। এই দুই বিশ্বযুদ্ধ কেন সংঘঠিত হয়েছিল, এতে কারা অংশ নিয়েছিল এবং এতে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতিসহ কি ফলাফল হয়েছিল সে সম্পর্কে আমাদের কম বেশি জানা আছে।

এই দুই বিশ্বযুদ্ধের পরে যাতে এমন কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা বিশ্বকে না পেতে হয় এর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। জাতিসংঘ থেকে এ পর্যন্ত আমরা কীভাবে কি ফল পেয়েছি বা এখনো পাচ্ছি অথবা এটি বিশ্বের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে কিনা, পারলেও কতটুকু আর না পারলে তা কেন সে আমরা জানি। তবে পাপেটমাস্টারদের কব্জি ও আঙুলের খেলা নিয়ে আমাদের মতো দর্শকদের আলোচনা না করে শুধু নজরে যা পড়ে তা নিয়ে কথা বলাই উত্তম মনে করি। বিগত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়ার কাজকর্ম এবং ইরান-আমেরিকার সাপেনেউলে সম্পর্কসহ এই দেশগুলোর শত্রু-মিত্রদের নানা আচরণ বিশ্লেষণ করে অনেক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই ভেবেছিলেন, আমরা আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগুচ্ছে। সম্প্রতিও যুক্তরাজ্যের দ্য সান’ও এমনই একটি বিশ্লেষণধর্মি আশঙ্কাজনক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আধুনিকসব ভয়ানক অস্ত্র-ক্ষেপনাস্ত্রের দ্বারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুঃস্বপ্ন এতদিন আমরা অনেকেই দেখে থাকলেও সেটি আঘাত হানতে পারেনি বা ভবিষ্যতে এই দুঃস্বপ্ন সত্যি হবে কিনা সেটিও অনিশ্চিত। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলতে পারি। এ যুদ্ধে কোনো দেশ বা দেশ সমষ্টি অন্য কোনো দেশ বা দেশসমষ্টির শত্রু নয়, এ যুদ্ধ শুধুই প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ, নিজদের অস্ত্বিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে চিনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাস সনাক্ত হবার পরই পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে। যদিও চিন শুরুতেই পুরো উহানকে আবদ্ধ করে ফেলেছিল, তবে যতদিনে এ ভাইরাস ও এতে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে ততদিনে তা ছড়িয়ে গেছে পৃথিবী জুড়ে। উহানের বন্দীদশা দেখে এক শ্রেণির মানুষ মুচকি হেসেছেও বটে অথচ এখন সেই চিন ব্যতিত অন্যরাই বিপদে রয়েছে।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির দেশের প্রেসিডেন্ট যখন বলেন পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কানাডার মতো সচেতন ও প্রভাবশালী দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন কান্নায় ভেঙে পড়েন, ইতালির মতো দেশের কর্তারা যখন অসহায়, স্পেনের মতো বিলাসিতা পছন্দকারীরা যখন লাশের সংখ্যা গুনতে গুনতে হয়রান, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন নিজেকেই নির্বোধ বলে গালি দেন তখনও কি আলাদা করে বলে দেয়ার দরকার আছে আমাদের এ বিশ্ব এখন কেমন আছে?

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে একটি বিশেষ তর্ক সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। যদিও রয়টার্স’এর একটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিবেদনে দেখা যায় বিষয়টি নিয়ে যেভাবে জল ঘোলা করছিল সমালোচনাকারীরা তা আংশিকভাবে মিথ্যে প্রমান হয়েছে। ডিন কুনজ্‌ ১৯৮১ সালে ‘দ্য আইজ অব ডার্কনেস’ নামে একটি উপন্যাস লেখেন, মিস্ট্রি থ্রিলার জনরার সেই উপন্যাসের একটি জায়গায় পাওয়া যায় লি চেন নামক এক বিজ্ঞানী উহান-৪০০ নামের একটি জৈবঅস্ত্র বানিয়েছে যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে মৃত্যু নিশ্চিত এবং এটি সংক্রমিত হয় তবে এর কোনো প্রতিরোধক বা প্রতিষেধক নেই। উপন্যাসটি অনুসারে এটি বানানো হয় চিনের উহানে নিজেদের আরডিএনএ ব্যবহার করে। এ নিয়ে কম কথা হয়নি। শুধু এই কাল্পনিক থ্রিলারই নয়, অনেকেই বলছেন এই ভাইরাস চিনের বানানো, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস এর নাম দিয়েছেন চাইনিজ ভাইরাস। কেউ কেউ বলছেন এই ভাইরাসই চিনের জৈব অস্ত্র বা জীবাণু অস্ত্র যার জন্য তাঁরা অনেকদিন ধরে গবেষণা করেছে, আবার কেউ বলছেন এর থেকেও বড় জৈব অস্ত্র বানানোর জন্য আপাতত করোনাভাইরাস বানিয়েছে চিন। কি সত্য কি মিথ্যা, সেসব বাদ দিয়ে সামনে এগোন যাক।

একদিন এই করোনাভাইরাস বিদায় নিবে বা বিদায় না নিলেও এর প্রতিষেধক বা প্রতিরোধক আবিষ্কার হবে কিন্তু নিঃসন্দেহে আর্থসামাজিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন হবে, সবথেকে বেশি ইতিবাচক পরিবর্তন হবে মানুষের মানসিকতার। এই পরিবর্তন কতটা হবে তা আগে থেকেই বোঝা না গেলেও যা হবে তা মানুষ টের পাবে।
করোনাভাইরাসের আবির্ভাব আমাদেরকে প্রমান করে দেখিয়েছে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত কারো শুধু ধনসম্পত্তি বা অর্থবিত্ত, অস্ত্র বা গোলাবারুদ কিংবা একুশ শতকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ তথ্যবিজ্ঞানে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও তাকে আদতে স্বয়ংসম্পুর্ণ বলা অর্থহীন। যেকোনো উন্নয়নমূলক আলোচনা করতে গেলে আমরা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আমেরিকা-কানাডা বা চিন-জাপানের মতো দেশের তুলনা দিতে ভুলিনা, কিন্তু এরাও যখন এই ভাইরাসের কাছে তুচ্ছ বলেই প্রমান হয়েছে তখন কেবল শুধু তর্ক বাড়িয়ে লাভ কী?

আমরা দেখে থাকি, বিশেষ কিছু শ্রেণির মানুষ সর্বদা এমনসব হাসপাতালে চিকিৎসা নেন যেখানে চিকিৎসার চেয়ে বিলাসিতা হয় বেশি, কেউ অপ্রয়োজনেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফর করেন সামান্য সর্দির মতো সমস্যা হলেও। অপরদিকে এও দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে, অর্থের অভাবে শহরের রাজপথে বা ফুটপাথে জীবন দিয়েছেন অনেকে। সরকারি হাসপাতালের মতো জায়গাতেও এক প্রসূতি মায়ের স্থান হয়নি, সন্তান প্রসব করেছিলেন রাস্তায়। অথচ এখন পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যেখানে একই ছাদের নিচে একইভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সবাইকে, ধনী বা গরীব বলে চিকিৎসায় কোনো বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়না বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়না। এবং যেখানে হাসপাতালে রোগী গেলে অর্থের কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে পারতেন না বা কর্তৃপক্ষ প্রাপ্য সেবা দিত না সেখানে এখন দেশের আনাচেকানাচে রোগী খোঁজার জন্য বিশেষ মিশন পরিচালনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি আরো একটি বিষয় বলে নিতে হয়, সামান্য সর্দিজ্বরের চিকিৎসার জন্য শুধু ডাক্তারই ফি নিতেন দুইশত থেকে হাজার পর্যন্ত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার কম বেশি, সেখানে এই চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন সবাইকে এক রকম মুখস্থ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে যেদিন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটির ঘোষণা এবং লক ডাউন করা শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন-নিম্নবিত্তের মানুষের প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে। যারা দিন আনে দিন খায় তাঁদের গল্প আমরা প্রত্যেকে জানি এবং এটিও জানি তাঁদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সহযোগিতা করে থাকে এবং তাঁরা সে সহযোগিতা হাসি মুখে গ্রহন করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, যদিও এ সহযোগিতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে।

যারা উচ্চবিত্তের তাঁরা পায়ের ওপরে পা তুলে কয়েকবছর বা তারও বেশি সময় রাজার হালে পায়ের ওপর পা তুলে থাকতে পারবেন এবং এই লোকেরাই মোটামুটিভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এটি সত্য যে, নিম্নবিত্তের মানুষের মতো তাঁদেরও আয়ের পথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে আছে। একজন উচ্চবিত্তের মানুষের সাজানো ছকে যে কতসংখ্যক মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষের মুখে আহার উঠে সেটিতে আমরা অস্বীকার করিনা, কিন্তু এখন তা বন্ধ। এই সাময়িক সময় আসলে কতদিনের জন্য সাময়িক সে আমরা জানিনা। মনে রাখতে হবে উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ততে আসতে ধাপ মাত্র একটি।

“বাবু মরে শীতে আর ভাতে” প্রবাদটি শুনেছিলাম আমার দাদির কাছ থেকে, এটি মধ্যবিত্তের জন্য খুব খাটে। শুধু ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে না পারে হাত পাততে না পারে খুধার জ্বালা নিয়ে বেঁচে থাকতে। শুনেছি এই লজ্জাশীলদের জন্যও বিশেষভাবে ভাবছে সরকার।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কে একটি ভিডিও দেখেছি, যেখানে কলকাতার কোনো এক হিজড়া সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলছেন এতদিন যারা তাঁদের সাহাজ্য করেছেন যাদেরটা খেয়ে এতদিন জীবনধারণ করেছেন তাঁরা আজ বিপদে আর এ কারণে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নিম্নশ্রেণির মানুষেরা এখন তাঁদের চেয়ে উচ্চশ্রেণির বলে পরিচিতদের মুখে আহার তুলে দিচ্ছেন, এসব ঘটনা আমাদের মানবজাতির কাছে কি বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে সেটি কি বুঝতে পারছি না?

বিশ্ব এখন ভালো নেই। কিছুদিন আগে এই প্রবন্ধটি লিখলে হয়ত লিখতাম শুধু বিশ্বের মানুষই শুধু হুমকিতে আছে কিন্তু আমেরিকার একটি চিড়িয়াখানায় বাঘের শরীরে করোনাভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর বলা যায়, এই মুহুর্তে সৃষ্টির সেরা জীবের মধ্যে সচেতনতা এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টার দয়া ছাড়া মানবসম্প্রদায়সহ বিশ্বের অধিকাংশ জীব ধ্বংস হয়ে যাবে।
নিজে ঘরের বাইরে বের না হতে পারলেও আমাদের সাংবাদিক ভাইদের বদৌলতে বঙ্গোপসাগরে ডলফিনের আনন্দ উল্লাস ও বনের হরিণের সমুদ্রস্নান দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আর এ হয়েছে ওইসব এলাকায় এখন জনমানবের পা পড়ছেনা বলে। প্রকৃতি যেন তার হারানো রূপ ফিরে পেয়েছে। খুব বেশি দূরে না গিয়ে ঢাকার কথাই বলতে পারি। যেখানে মার্চের শুরুর দিকে ঢাকার বাতাসে বিষের পরিমাণ অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় বেশি ছিলো আজ সেই তালিকায় ঢাক্র অবস্থান খুঁজে পেতে চাইলে অনেকটা নিচের দিকে চোখ দিতে হবে।

বিভিন্ন স্যাটেলাইট ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অনেকে রিপোর্ট চোখে ধরা পড়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে আগের থেকে এখন প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। কেউ কে বলছেন প্রকৃতির সাথে মানব যে দুর্ব্যবহার করে চলছে এই করোনাভাইরাস তাঁর শাস্তি হিসেবে এসেছে। প্রকৃতির জেগে ওঠা নিঃসন্দেহে ভালো কিছুর লক্ষণ যেখানে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে হাজার হাজার সেমিনার-সম্মেলন-ওয়ার্কশপ হয় কিন্তু কাজের কাজ হয়না। আজ ঠিকই বঙ্গোপসাগরে ডলফিন এসেছে, একই সমুদ্রতীরে হরিণ খেলা করছে, কানাডার ফুটপাথে ফুলের বাগান তৈরি হচ্ছে, ঢাকা তাঁর দূষণ হারিয়েছে, ইত্যাদি। প্রমান পেল সব রকম প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকৃতির ক্ষতি না করে আলাদা বিলাশবহুল বা বড়ো কোনো কার্যালয়ের প্রয়োজন নেই, বরং কর্মিরা তাঁদের ঘরে বসেই কাজ করতে পারেন।

কিছুদিন পরে এ মানবের কি হবে সেটি এখনই বলে দেয়া যায়না। তবে এতদিন বিশ্বের প্রায় ৭০ ভাগের মতো মানুষ ঘরের মধ্যে বন্দী জীবনা পার করার ফলে না চলছে কলকারখানার কল, না নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত পদার্থ, খাল-নদী-সাগরেও উল্লেখ করার মতো দুষণ হচ্ছে না, আকাশে উড়ছেনা উড়োজাহাজ, বাজছেনা কোটি কোটি মোটরগাড়ির হর্ন, এরকম কৃত্রিম অনেক কিছুই পরিবেশ থেকে দূরে থাকার কারণে পরিবেশ যেন নতুন জীবন পেয়েছে।

বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর নেতা থেকে শুরু করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মধ্যে যে বিশেষ উগ্রতা বা ক্ষমতার প্রভাব দেখা যেত সেটি এখন এই করোনাভাইরাসের প্রভাবে ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে। মানুষ যে ভালোবাসতে পারে বা যেকোনো সময় যেকোনো যেকোনো পরিস্থিতে মানুষের পাষান হৃদয় যে কেঁদে উঠতে পারে সেটি আবারো প্রমান পেল। ধারণা যদি মিথ্যে না হয়ে থাকে তাহলে বলা যায়, সাহেব-সাহেবান বলে পরিচিত প্রায় প্রতিটি মানুষই এখন গৃহস্থালি বা ঘরকন্নার কাজে নিজেদের অভ্যস্ত করে নিতে পারবেন এবং কখনোই এসব কাজকে ছোট করে দেখবেন না যা তাঁরা এতদিন মনে করে এসেছিলেন। পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজের মহিলারা ঘরের মধ্যে যে আবদ্ধ দিনযাপন করত তাঁর কিছুটা কষ্ট হলে পুরুষেরা বুঝতে পারবেন।

করোনাভাইরাস কবে এর মহামারী রুপ ত্যাগ করবে সেটি আমাদের জানা নেই, তবে এই ভাইরাসের কারণে হওয়া রোগ কোভিড-১৯ থেকে বিশ্ব যখনই মুক্তি পাবে তখন এক সুন্দর ও সজীব বিশ্ব পাব এবং প্রাপ্ত এই নতুন বিশ্বের নতুন জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করবে মানবজাতি। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো সামরিকশক্তির দিকে একটু কম তাকিয়ে বরং খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা এই পাঁচ মৌলিক চাহিদার দিকে নজর দিবে। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধিপাবে। এবং জাতিসংঘের চেয়েও জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক এজেন্সি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্ব বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

আমাদের এই বিশ্বযুদ্ধ কবে থামবে সেটি না বলা গেলেও শেষের দিকে অন্তত বলতে পারি- অন্ধকারের পরে আলোর দেখা পাওয়া যাবেই। এত কষ্টের মধ্যেও যেমন আমরা আমাদের ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ঝোলানোর উপলক্ষ পেয়ে চলেছি, ঠিক তেমন করোনাভাইরাসের মহামারী পরবর্তি সময় যে আমাদের জন্য অধিক উজ্জ্বল হয়ে আসবে সে আশাও করতে পারি। মহান আল্লাহ আল-কুরআনে বলে দিয়েছেন, “নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে” (সুরা- ইনশিরাহ, আয়াত- ৬ ও ৭)। আপাতত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি যাবতীয় নির্দেশনা মেনে চলুন।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
Previous Post Next Post