স্যার, পারমানেন্টলি থেকে গেলেই তো পারেন

গত জুলাই ২০, ২০১৯ থেকে আমি রাজধানীর রায়ের বাজার উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকের ভূমিকায় ছিলাম। সেখানে আমি শিক্ষার্থীদের কি শিখিয়েছি জানিনা, তবে শিখেছি অনেক। রুটিন অনুসারে গত সোমবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমার শেষ ক্লাস ছিল। ওদের ইংরেজি প্রথম পত্র পড়িয়েছি। পড়ানোর ফাঁকে বলে ফেললাম, ওটা ছিল ওদের সাথে ক্লাসে আমার শেষ দেখা। কিন্তু এটা শুনে ওদের প্রতিক্রিয়া দেখে নিজে নিজে অনুধাবন করলাম, কথাটি আরো গুছিয়ে নরমভাবে বলা যেতে পারত। তবে আমিতো আর জানতাম না ওরা আমাকে এতটা ভালোবেসে ফেলেছে। সত্যি বলছি, প্রতিক্রিয়া দেখার বা জানার আগে আমি বুঝতেই পারিনি ওদের আবেগ বা আমাকে ওরা এতটা কাছে টেনে নিয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রদের সাথে আমি। অক্টোবর ২, ২০১৯।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রদের সাথে আমি। অক্টোবর ২, ২০১৯।

পরের দিন মঙ্গলবার টিফিন শেষে আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি তখন বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় শফিক স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন, পঞ্চম পিরিয়ডে আমি ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি ক্লাসে যেতে পারব কিনা বা সময় হবে কিনা। স্যারকে জানিয়ে দিলাম, আমার যেতে কোন সমস্যা নেই। ওটা অ্যাডজাস্টমেন্ট ক্লাস ছিল না। স্যার বললেন, ওই ক্লাসের ছেলেরাই আমাকে যেতে অনুরোধ করেছে। ওরা আমাকে উপহারও দিয়েছে। আমি কখনোই এতগুলো উপহার একসাথে পাইনি, ভবিষ্যতে কখনও পেলেও এর সমান হবে না।

কী লিখব? কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না মনের কথাগুলো বলার। তবে এমন অভিজ্ঞতা যেকোন মানুষের জন্যই অনেক বড় কিছু। অনুরোধের ক্লাসে কি পড়ালাম বা বললাম তার চেয়েও আমার কাছে বড় ছিল ওদের মুখ থেকে বারবার বের হয়ে আসা একটি বাক্য- ‘স্যার, পারমানেন্টলি থেকে গেলেইতো পারেন’। আমার ক্লাসে ওরা সাধারণত চুপচাপই থাকত, কিন্তু এই দিনের ক্লাসটি একটু ব্যতিক্রম ছিল।

ভালোবাসা ও শুভকামনা রইল ওদের প্রতি। সারাজীবন মনে থাকবে ওদের কথা। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আমাকে সহযোগিতা করেছেন নানাভাবে, তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।


আমাকে দেয়া ওদের অমূল্য উপহার।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
ইমেইল: mail@mizanurrmizan.info

#mizanurrmizan

Previous Post Next Post