সমাধিস্থলকে পার্কের মতো ব্যবহার ও তাতে অবাধ বিচরণ

আপনি কখনো কবরস্থানে গিয়ে আনন্দ-ফূর্তি করেছেন? আমি কখনো করিনি। তবে কুমিল্লার সেমিটরিতে একবার ছবি তুলিয়েছিলাম, অন্যেরটা দেখে যেটা আমার প্রোফাইল ফোটো হিসেবে বা নিউজপেপারে দেখছেন দুই-আড়াই বছর ধরে। ছবিটি তুলেছিল আমার এক বন্ধু; আবীর। ছবি তোলার পরপরই বুঝতে পারলাম কাজটা ঠিক হয়নি। তবে ঐ পরিবেশটা এমনই যে যে কেউ চাইলেই ছবি তুলতে চাইবে। যাইহোক, ছবি তোলাটা আমি পাপ মনে করি না বা সমাধীর মর্যাদাহানী মনে করি না যদি সেটি খুব চরম পর্যায়ে বা খেয়ালের বাইরে চলে না যায়। ঐতিহাসিক কোন সমাধিক্ষেত্রে গিয়ে মানুষ নিজেকে ওই ইতিহাসের কাছাকাছি নিয়ে ভাবতে চাইতে পারে, এক ফ্রেমে বন্দি হওয়ার ইচ্ছে করতে পারে। এখানে দোষ আছে বলে মনে করি না।

তবে আপনি চাইলেই একটা সমাধিস্থলকে পার্ক বা উদ্যানের মতো করে ব্যবহার করতে পারেন না, এই অধিকার আপনার নেই অবশ্য এখানে অধিকারের মতো অত বড় কথা টেনে আনার প্রয়োজন নেই যদি কারও অন্তত বোধ-বুদ্ধি থাকে।

আপনি যদি ঢাকার শাহবাগের আশেপাশে থাকেন তাহলে হয়ত আপনার চোখে পড়েছে, নজরুল-জয়নুলের কবরস্থানে ছেলেমেয়েরা প্রেম করছে, লাফালাফি করছে।

তবে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর কোল্লাপাথর শহিদ সমাধি এখন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে খবর বের হচ্ছে বা আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে এর প্রমান পাচ্ছি। এই কেল্লাপথর সমাধিস্থলে যেখানে অর্ধশত বীর ঘুমিয়ে আছেন। আপনি কী বলবেন এ নিয়ে?


আপনি আপনার ধর্মমতে সমাধির বাসিন্দাদের জন্য স্রষ্টার কাছে শান্তি কামনা করতে পারেন, সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, শোক জানাতে পারেন, বীরদের বীরত্ব স্মরণ করে গর্ব করতে পারেন। এমনকি দুটো ছবি আপনি তুলতেই পারেন, যে ফ্রেমে একই সাথে আপনিও থাকবেন। কিন্তু এটি যেন কোনভাবেই অসম্মানের না হয়।

শেষে বলি, আমরা যারা আমজনতা তাদের তার ছেড়াই থাকে অনেক সময়। তাই বলে ওসব যারা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন তাঁরা কী করেন?

যা দেখছি এখন এসব স্থানে বসার ও ছবি তোলার অনুমতি তুলে নেয়া উচিত, তাহলেই ঠিক হয়ে যাবে।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
Previous Post Next Post