এগিয়ে যাক রায়েম (RIME)

শিক্ষার প্রকৃতলক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মানুষের আচরণের প্রত্যাশিত পরিবর্তনকে সামনে রেখে দেশের নিকট দায়বদ্ধতার অনুধাবন থেকে কয়েকজন পেশাজীবি মিলে একটি সংস্থার সূচনা করেছেন। তাঁরা অর্থাৎ সংস্থার উদ্যোক্তারামনে করছেন দেশে শিক্ষারলক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে তথ্য ও তত্ত্বনির্ভর জ্ঞানার্জন যতটা গুরুত্ব পায়, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন বা পরিবর্তনততটা গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়না।



দেশের চলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ঘাটতি অনুভব করে ‘Research and Innovation for Meaningful Education (RIME)/ (রায়েম) নামের একটি মননশীল সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার এ পরিস্থিতির উন্নয়নকল্পে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তাঁদের মূল লক্ষ্যই হল ‘অর্থবহশিক্ষা’ বা ‘Meaningful Education’ বাস্তবায়ন। শিক্ষার্জনের দ্বারা যেনশিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নসাধিত হয় এমনটাই রায়েম’র উদ্যোক্তাদের প্রয়াশ। 

নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল উদ্যোগ বলব, মানুষ অনেক রকম সংস্থার সাথে জড়িত থাকলেও শিক্ষামূলক কোন সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায়না। দেশের সামগ্রীক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেবল সরকারই চিন্তা করবে, এমনটাই আমাদের সাধারণ মানুষের ভাবনা।কিন্তু আমাদের এটি জেনে রাখা উচিৎ যে, অফিসিয়ালি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের নিকট থাকলেও সাধারণ মানুষের পুর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া দেশ পুর্ণ উন্নতি লাভ করতে পারেনা।

মানব জীবনের মহৎগুণাবলী যেমন দেশপ্রেম, সততা, অধ্যবসায় ইত্যাদিঅনুশীলন কর্তৃক দেশ সর্বদিকে উন্নতি করতে পারে এবং এ থেকেই উৎসাহিত হয়েরায়েম দেশের শিক্ষা খাত নিয়ে যতটুকু সম্ভব গবেষণাধর্মী কাজ করে যাবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছে। ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস)-এ একদল শিক্ষক, শিক্ষক প্রশিক্ষক, গবেষক, শিক্ষা উদ্যোক্তা, শিক্ষানবিশ-শিক্ষক,শিক্ষাক্রম পরিকল্পনাবিদ,ও পাঠ্যপুস্তক লেখকসমন্বয়ে রায়েম প্রতিষ্ঠিত হয়।

উপরোক্ত কথা থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে,রায়েম একটি শিক্ষা-সংস্কৃতিমূলক, স্বেচ্ছাসেবাধর্মীপেশাগত শিখন সম্প্রদায় (Professional Learning Community) যা পরিবর্তনের প্রতিনিধি (Chang Agent) হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে নব-নব ধারণার উদ্ভাবন-উন্মোচন, শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অনুশীলন এবং শিক্ষাবিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে অর্থবহ শিক্ষা (তথা প্রত্যাশিত শিক্ষাবিস্তরণে ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি তাঁদের পরিচিতিমূলক একটি সভা হয়ে যায় যেখানে সংস্থাটির রুপকল্প তুলে ধরা।

রুপকল্পের চৌম্বক অংশ হলো মূল্যবোধচর্চা,গবেষণা পরিচালনা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থবহ শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্যকাজ করা শিক্ষায় অর্থবহ পরিবর্তন আনয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিক্ষা-উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করা, সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভিত্তিতে সকলের অংশগ্রহণমূলক গুণগত শিক্ষা সম্প্রসারণে কাজ করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যেইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ আনয়নে যথাসাধ্য চেষ্টা করা,শিক্ষায় প্রযুক্তি ও শিক্ষণবিজ্ঞানেরঅর্থবহ সমন্বয় সাধনে কাজ করা, শিক্ষা পরিমন্ডলে ভবিষ্যত নেতৃত্ব সৃষ্টিতে অবদান রাখা, গবেষণা পরিচালনা, গবেষণা জার্নাল প্রকাশ, শিক্ষা বিষয়ে কনফারেন্স, সেমিনার, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ও উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনে উদ্যোগীহওয়া,শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন গবেষক হিসেবে নিজেকে এবং অন্যদেরকে প্রস্তুত করতে পদক্ষেপ নেওয়া, শিক্ষক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যযোগ্য ব্যক্তিদের সম্মানিত করা সহ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রায়েম’র উদ্যোক্তারা।

এমন একটি সংস্থা বা সংগঠনকে নিশ্চয়ই স্বাগত জানানো দরকার এবং যথাসম্ভব সহযোগীতাও তাঁদের প্রাপ্য। এগিয়ে যাক রায়েম।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
Previous Post Next Post