উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা (Pukkusong-2)

জাতিসংঘের প্রতি বরাবরের মতো এবারও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। ২০১৭ সালের প্রথম ভাগেই দেশটি আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। নতুন এই আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালিয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে। আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তরল জ্বালানি নির্ভর হলেও এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়লা, চারকোল, পিটের মতো কঠিন জ্বালানিতে চলে- এটিই হলো নতুন এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। একে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ‘ক্যাটার পিলার ট্রাক’ যেখানে গতানুগতিকভাবে টায়ার ব্যবহার করা হতো যে কারণে শুধুমাত্র বিশেষ প্রচলিত পথ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু ক্যাটার পিলার ট্রাক ব্যবহারে এর জন্য যে কোন পথে একে বহন করা সম্ভব।
Pukkuksong-2
Image Credit: KCNA

Pukkusong-2 নামের মিডিয়াম লং রেঞ্জের নতুন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের ক্রিয়া সফল করার জন্য যে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে তার নাম ‘কোল্ড ইজেক্ট’ প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিটির বৈশিষ্ট্য হলো উৎক্ষেপক যন্ত্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরই কেবল সেটির যন্ত্র চালু হয় যে কারণে উৎক্ষেপক প্লাটফর্মের তেমন কোন ক্ষতি হয় না এবং পুনরায় একে নিক্ষেপের কাজে লাগানো যায়। এই প্রযুক্তিতে সঙ্কুচিত গ্যাসের সাহায্য নিয়ে নিক্ষেপ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাউথ কোরিয়ার সামরিক দফতরের দেয়া তথ্য মতে, রোববার উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপান সাগরের পূর্ব দিকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার বা ৩১০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে। এই ধরনের ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যলিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার (১৮৬৪-৩৪১৭ কিলোমিটার) উত্তর পিয়ংগানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA)’ জানিয়েছে- মার্কিন প্রেসিদেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন এ কাজের তত্ত্বাবধান করেন এবং সফলতার সঙ্গে শেষ করেন।

বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া গত ১৩ মাসে ২০টির বেশি আন্তমহাদশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র জানান দিচ্ছে- উত্তর কোরিয়া সামরিক শক্তিতে যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অনেকে এটিকে ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রধানরা নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ সেরে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য চালাচালিতে একতাবদ্ধ হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

জতিসংঘের নিকট থেকে বরাবরই এসবের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকে কিন্তু দেশটি জাতিসংঘের তোয়াক্কা করে না কোন সময়ই, নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েই যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বলেন- এ ধরনের কাজ থেকে কিম জং উন’র দেশকে বিরত থাকা উচিত, কেউ বলেন মার্কিনসহ অন্যদের অহঙ্কার ভাঙ্গার বা তাদের একমুখী স্বভাবরোধের জন্য উত্তর কোরিয়ার এই ইস্যু অন্যতম ভূমিকা পালন করবে। তবে মার্কিন ও তাদের মিত্রদেশসমূহের ভেতর এ নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এ কথা সত্য যে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রও এবং পারমাণবিক পরীক্ষা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য অনেকটাই ক্ষতির কারণ হয়ে দারিয়েছে।

তথ্যসূত্র : KCNA, BBC, CNN



- মু. মিজানুর রহমান মিজান
Previous Post Next Post