বিউ জেসাপ: নাম বিক্রি করা যার কাজ

যুক্তরাজ্যের শেলটেনহ্যাম লেডিস কলেজের ১৬ বছরের ছাত্রী বিউ জেসাপ বিশ্বজুড়ে এক রকম শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। বিষয়টি বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ষোড়শী জেসাপ মূলত নাম বিক্রি করছেন। যা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করতে সক্ষম হয়েছেন এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোক্তা যা যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ সর্বপ্রথম বিশ্ব নাগরিকদের কাছে তুলে ধরেছে। খুবই অদ্ভুত, তাই না? চীনের আধুনিক বাবা-মায়েরা মনে করেন তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির নামগুলো
এখন সেকেলে। এগুলো আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে মানানসই নয়। তাছাড়া এসব নাম যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ লাভের জন্য চিনা নামগুলো অকার্যকর এবং ই-মেইলেও এসব নাম ব্যবহারের অযোগ্য। ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে পশ্চিমা দেশেই চাকরি করবে বলে তারা সেসব দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নাম দিতে চান শিশুদের বাবা-মায়েরা।

প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক- বিউ জেসাপ কাজটি কিভাবে করেন আর এতে আয়ই বা হয় কিভাবে? বিউ জেসাপ তার মায়ের সঙ্গে যখন চীনে যায় তখন সেখানে তার মায়ের এক বান্ধবী নিজ সন্তানদের জন্য পশ্চিমা নাম রাখতে বলেন এবং সঙ্গে এর কারণও ব্যাখ্যা করেন বিউ এর কাছে যা আগেই বলা হয়েছে। রীতিমতো জেসাপও রাজি হয়ে কয়েকটি নাম তুলে ধরেন মায়ের বান্ধবীর কাছে।

এখান থেকেই কিশোরী জেসাপ শিশুদের নাম দেয়ার ব্যাপারটি গভীরভাবে অবলোকন করে কেউ একজনের সহায়তায় একটি ওয়েবসাইট খুলে বসেন। এই ওয়েবসাইট থেকে তিনি শিশুদের বাবা-মায়ের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পশ্চিমা সংস্কৃতির তিনটি নামের তালিকা দিয়ে থাকেন যাতে নামের প্রকৃত অর্থ এবং নেমসেক বিখ্যাত মানুষদের তথ্যও জুড়ে দেয়া হয়। যখনই তাদের কোন নাম পছন্দ হয়ে যায় তখনই অর্থ ছাড়তে হয় পকেট থেকে। ছয় মাসে ২ লাখ ৩২ হাজারের ওপরে নাম দিতে পেরেছেন বিউ এবং আয় করেছেন ৪৮ হাজার পাউন্ড।

একটি ইংরেজী প্রবাদ-  'make hay while the sun shines'  একে বাংলা প্রবাদে রূপ দিলে হয় ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারা।’ যদি কেউ সঠিক জায়গায় সঠিক মুহূর্তে সঠিক কাজটি করতে পারেন তবে তাকে আর বোধহয় পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না, যদি তিনি কোন ভুল না করে থাকেন। যেমনটি করতে পেরেছেন ব্রিটিশ কিশোরী বিউ জেসাপ।

ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ ঠিক একই কাজ করেছেন যদিও জেসাপ ও জুকের বয়স ও কাজ দুটোই ভিন্ন দিকে। আমরা ঝোপ বুঝে কোপ মারার ইতিহাসে দেখেছি টাঙ্গাইলের রণদা প্রসাদ সাহার নাম যিনি প্রথমে বাদাম বিক্রি করতেন। নাম বিক্রি করে যে আয় করা যায় তা নিতান্তই চিন্তার বাইরে ছিল। তবে এক প্রকারের নাম বিক্রি করে খাওয়ার কথা শুনে আসছি যার সঙ্গে চীন দেশে ব্রিটিশ কিশোরীর নাম বিক্রয়ের কোন মিল নেই।

আমাদের চারপাশে হয়ত এ রকম আরও অনেক সুযোগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে যা আমরা আমাদের রঙ্গিন চশমা দিয়ে ঠিকঠাকভাবে দেখছি না বা দেখলেও আমাদের মেধাহীন মগজ আন্দাজ করতে পারছে না- কী করতে হবে এবং কেমনে করতে হবে? অবশ্য বিউ জেসাপ যে কাজটি করে দেখিয়েছেন সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না হলেও অন্তত ঝোপ বুঝে কোপ মারতে জানার চর্চাটি করতে পারি।

- মু. মিজানুর রহমান মিজান
ইমেইল: mail@mizanurrmizan.info



(দৈনিক জনকণ্ঠ এর ডিপ্রজন্ম'তে প্রকাশিত, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬)
Previous Post Next Post